বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সম্মানিত অভিভাবকগণ,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
শুরুতেই আমি মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের প্রশংসা করছি, যিনি আমাদেরকে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার তাওফীক দান করেছেন। ঠাকুরগাঁও শহরে এমন সমন্বিত সিলেবাসের আলোকে ডিভাইন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলই প্রথম স্কুল।
প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই স্তরেই একজন শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশ, চিন্তাশক্তি, দূরদৃষ্টি, বিনয়, বুদ্ধিমত্তা, মন ও মননশীলতা ইত্যাদির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু গতানুগতিক, শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনার মান দিনদিন এমন শোচনীয় অবস্থায় উপনীত হয়েছে, যা প্রিয় সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে সচেতন অভিভাবকসহ আমাদের সকলকে শঙ্কিত করছে প্রতিনিয়ত। **
আজকের বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনশীল। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যেখানে প্রতিনিয়ত নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, সেখানে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে যথাযথভাবে ধারণ করতে পারেনি বলেই মনে করেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞগণ। সাধারণ সিলেবাসে পরিচালিত সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ অভিবাবকদের প্রত্যাশিত মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে সক্ষম হচ্ছে না। অধিকন্তু এর সাথে যুক্ত হয়েছে কোচিং বাণিজ্য।
অন্যদিকে একজন মুসলিমের জন্য ইসলামী ও নৈতিকতা শিক্ষা অর্জনকে ফরজ করা হয়েছে। শিশুরা ছোটবেলা থেকেই ইসলামী আক্বীদাহ্, ফিকহের মৌলিক শিক্ষা, নামাজ, রোযা, হালাল-হারাম এবং আদব-কায়দা শিখবে। ইসলামের মৌলিক শিক্ষা অর্জনেরজন্য প্রচলিত শিক্ষা কাঠামোতে যে সামান্য ও অপ্রতুল ব্যবস্থা আছে তা অশ্লীলতা, অপসংস্কৃতি ও পাশ্চাত্য দর্শন থেকে নিজেকে রক্ষা করে প্রকৃত মুসলিম হিসেবে নিজেকে ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। অথচ সুনাগরিক হিসেবে সন্তানদের গড়ে তোলার জন্যও ইসলামী ও নৈতিকতা শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীরা যেন ইসলামি মূল্যবোধকে জীবনের অংশ করে নিতে পারে, সে জন্য আমরা সুনির্দিষ্ট কারিকুলাম, অনুশীলন ও তত্ত্ব¡াবধানের ব্যবস্থা রেখেছি। এতে তারা নিজেরা একজন মুসলিম হিসেবে চরিত্রবান, সৎ এবং দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে উঠবে।
চলমান শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্কটাপন্ন প্রেক্ষাপট ও উপলব্ধি থেকেই ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে ডিভাইন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড সিলেবাস প্রণয়ন করেছি। আজকের বিশ্বে ইংরেজি ভাষা একটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যম। চাকুরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা গবেষণা সকলক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার গুরুত্বঅপরিসীম। তাই আমরা বিশেষভাবে ইংলিশ স্পোকেন বিষয় চালু করেছি। এজন্য আমরা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ন্যাশনাল কারিকুলামের পাশাপাশি সময়োপযোগী বিষয়সমূহ যেমন ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইংলিশ স্পোকেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, হিফজসহ কুরআন শিক্ষা এবং ইসলামিক স্টাডিজ যুক্ত করেছি।
ডিভাইন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অন্যতম দিক হলো যোগ্য ও মানসম্মত শিক্ষকমন্ডলী। যারা মৌলিক বিষয় তথা বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও অন্যান্য সকল বিষয়সমূহে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আমাদের সকল শিক্ষক নিজ নিজ দক্ষতার কারণে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল আমাদের নিকট অবশ্যই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি আমরা বৃদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ, নৈতিক চরিত্র গঠন ও আদর্শ নাগরিক তৈরিকেও সমান গুরুত্ব প্রদান করি। আমাদের শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করছে না, বরং বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং জীবনমুখী গুণাবলি অর্জন করছে।
আমরা বিশ্বাস করি, স্কুল কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট আন্তরিকতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অভিভাবকদের সহযোগিতা ছাড়া লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব নয়। তাই অভিভাবকদের সহযোগিতা একান্ত অপরিহার্য। আমরা নিয়মিত অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশ আয়োজন করি এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ মূল্যায়ন করি।
তুলনামূলক কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব সাড়া এবং আস্থা অর্জনের মাধ্যমেঠাকুরগাঁও জেলায় ডিভাইন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ডিভাইন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে যে প্রজন্ম বের হবে তারা হবে সাধারণ শিক্ষায় সমৃদ্ধ, ইসলামী জ্ঞানে আলোকিত, ইংরেজিতে দক্ষ এবং চরিত্রে অনন্য। তারা সমাজে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
আমাদের এই প্রচেষ্টায় অভিভাবক, জেলার সুনাগরিক এবং দায়িত্বশীল সকলের নিকট একান্ত সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করেন। আমাদের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও ঈমানের সমন্বয়ে আলোকিত প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তোলার এবং সমাজ ও জাতিকে উন্নতির পথে নেতৃত্ব দেয়ার তাওফিক দিক।